আসসালামু আলাইকুম, সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার যিনি, আমাদেরকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। দরুদ ও সালাম পেশ করছি মানবতার মহান শিক্ষক উম্মতের কান্ডারী রাহমাতুল্লিল আলা-মিন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স:) এর উপর যার নিকট প্রথম ঐশীবানী অবতীর্ন হয়েছিল ‘ইকরা’ অর্থ্যাৎ (পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন) মূলত: এই প্রত্যাদেশ থেকেই আর্দশ সু-শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষাই আলো। কেবলমাত্র শিক্ষাই অজ্ঞতার অন্ধকারকে দূর করে। সত্যিকার শিক্ষা শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং তার চেয়েও বেশি কিছু। শিক্ষার উদ্দেশ্য হল ব্যক্তিকে আলোকিত করা এবং ব্যক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ইহা শিশুর সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে। একজন ব্যক্তি শিক্ষার সাহায্যে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে জয়ী হয়। শিক্ষা ভালোর দিকে মানবিক উন্নয়নের জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। মানুষের জীবন ও সমাজ চাহিদার নিরিখে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়। নতুন নতুন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তা আবার পরিবর্তিত হয়। শিক্ষাই সুন্দরতম, উন্নতর জীবন ও সমাজ গঠনের প্রধান হাতিয়ার। এজন্য যুগের চাহিদা মেটাতে পারে এমন শিক্ষার প্রয়োজন। শিক্ষা কোন পণ্য নয়, এটি অধিকার। মান সম্মত শিক্ষা দান করাই আমাদের অঙ্গিকার। সম্মানিত অভিভাবকদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, পৃথিবীতে দুই ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে যথা: ১. দ্বীনি শিক্ষা বা ইসলামী শিক্ষা, যা মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ের কল্যাণ অর্জনে সহায়তা করে। ২. জাগতিক শিক্ষা বা মানব রচিত শিক্ষা, যেটা মানুষের পার্থিব বা দুনিয়ার প্রয়োজন মেটানোর জন্য সহায়তা করে। আমরা প্রতেকে একজন মুসলিম অভিভাবক হিসেবে চাই আমার সন্তান এমন শিক্ষায় শিক্ষিত হোক যার মাধ্যমে সে উভয় জগতে সফলতা অর্জন করতে পারে। এমন সকল অভিভাবকদের খাসমহল নূরানী হাফিজী মাদরাসা ও এতিমখানায় স্বাগত জানাচ্ছি। খাসমহল নূরানী হাফিজী মাদরাসা ও এতিমখানা ‘‘কুরআনের সাথে হোক আধুনিক শিক্ষার অপার সমন্বয়’’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৭২ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভর্তি নিয়ে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। কারণ সবার প্রত্যাশা আমার সন্তান ভালো মানের মাদরাসায় ভর্তি হোক এবং ভালো ফল বয়ে আনুক। বাস্তবতা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক থাকলেও মানসম্পন্ন আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষার সংযোজন করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সক্ষম হয় না। আধুনিক প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে একজন শিক্ষার্থীকে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর ধর্মীয় শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতে সফলতা অর্জনে সাহায্য করে। আপনার সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে, একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিন, যেখানে আপনার সন্তানের শিক্ষাকে নিবিড় পরিচর্যার সাথে নিশ্চিত করবে। আর উচ্চ শিক্ষার পথকে সুগম করবে। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের জন্য খাসমহল নূরানী হাফিজী মাদরাসা ও এতিমখানার পরিবার বদ্ধপরিকর। এই প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র সার্টিফিকেট প্রদানে বিশ্বাস করে না বরং পাঠ বহির্ভূত সহশিক্ষা কার্যক্রম, সামাজিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি করে। আমরা আশা করি যে, যুগের, সমাজের, দেশের, এলাকার গন্ডি ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা একদিন অবদান রাখবে ইনশাআল্লাহ। এ বিশ্বাস আমার আপনার আমাদের সকলের। আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুল খালেক সাহেব দা.বা. প্রিন্সিপাল খাসমহল নূরানী হাফিজী মাদরাসা ও এতিমখানা চরফ্যাসন, ভোলা।